মহাসড়কে মরণখেলা বন্ধ করতে হবে
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এই মরণখেলাকে উৎসাহিত করছে একদল কথিত ‘বাস লাভার’ বা বাস ভক্ত। কিছু কিশোর-তরুণ মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে বা বাসের ভেতর থেকে চালকদের ঝুঁকিপূর্ণ স্টান্ট করতে উসকে দেয়। তারা এসব দৃশ্য ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়, যেন এটি কোনো বীরত্বের কাজ। সাময়িক অনলাইন জনপ্রিয়তার লোভে পড়ে কিছু চালকও যাত্রীদের জীবনকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছেন। মহাসড়ক কোনো সার্কাসের মাঠ নয় যে এখানে গতির সার্কাস দেখানো হবে।
এই অরাজকতা বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি ও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
কঠোর নজরদারি: হাইওয়ে পুলিশের টহল জোরদার করতে হবে এবং সিসিটিভির মাধ্যমে বিপজ্জনক ড্রাইভিং শনাক্ত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।
উসকানিদাতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: যারা ঝুঁকিপূর্ণ ড্রাইভিং উৎসাহিত করে বা ভিডিও ছড়িয়ে দেয়, তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
লাইসেন্স যাচাই: নিয়মিত চেকপোস্টের মাধ্যমে চালকের বৈধ লাইসেন্স নিশ্চিত করতে হবে।অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায়, অল্পবয়সী এবং লাইসেন্সবিহীন হেলপাররা অনেক সময় স্টিয়ারিং ধরছে।
গতি নিয়ন্ত্রণ: মহাসড়কে নিয়মিত স্পিড গান ব্যবহার করে অতিরিক্ত গতিতে চলা যানবাহন শনাক্ত করতে হবে এবং তাৎক্ষণিক জরিমানা ও আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রয়োজনে জিপিএস ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে বাসের গতি ও চলাচল পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করা যেতে পারে।
মহাসড়ককে নিরাপদ রাখতে এবং চালকদের এই আত্মঘাতী উন্মাদনা ও উসকানিকারীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর ও দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
মো. জাহিদুল ইসলাম জাহিদ
শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া
মোবাইল: ০১৭০৬৫০০৩২৯
লেখক: সদস্য, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।
এই লেখাটি
৬ মার্চ ২০২৬ তারিখে
নয়া দিগন্ত
পত্রিকায় প্রকাশিত।