ইহতেসাব : আমরা কেন দেব
আমরা প্রত্যেকেই কখনো না কখনো ভুল করে থাকি। হতে পারে তা নিজে জেনে শুনে করেছি, আবার কখনো নিজের অজান্তেও তা হতে পারে। জীবনে কখনো ভুল করেনি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া বড্ড কঠিন। আমাদের অসচেতনতার কারণে নিজেদের চোখে নিজের ভুল খুব কমই ধরা পড়ে। তবে অন্য মানুষের চোখে তা খুব সুষ্পষ্টভাবেই ধরা পড়ে। তাইতো রাসুলুল্লাহ (সা.) একজন মুমিনকে অপর মুমিনের আয়না বলে ঘোষণা করেছেন। এজন্য কোনো মুমিনের দৃষ্টিতে অপর মুমিনের দোষ-ত্রুটি ধরা পড়লে তার নৈতিক দায়িত্ব হলো তাকে সংশোধনের চেষ্টা করা। ইসলামে এই সংশোধনের পদ্ধতিকেই ইহতেসাব বলে। ইসলামি শরীয়তের পরিভাষায়- “অপরের কল্যাণ কামনায় তার ভুল-ত্রুটি ধরিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে পারস্পরিক সংশোধন পদ্ধতিকে ইহতেসাব বলে।”
আমরা সাধারণত কারো ভুল দেখলে তাকে অন্যের উপস্থিতিতে সামনাসামনি কটাক্ষ করে কথা বলি কিংবা তার অনুপস্থিতিতে অন্যের কাছে সমালোচনা করি। অথচ ইসলামের দৃষ্টিতে এর কোনটিই সঠিক নয়। এই দুই উপায়ে মানুষকে সংশোধন করতে চাইলে এর সফলতা লাভের সম্ভাবনা খুবই কম। বরং তা পারস্পরিক মনোমালিন্য ও শত্রুতা সৃষ্টির কারণ হতে পারে। তাই এ দুই পদ্ধতিই ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। উভয়টার জন্যই পবিত্র কোরআনে সতর্ক করা হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা এ দুই শ্রেণির লোকদের ব্যাপারে বলেন, “ধ্বংস হোক ঐসব লোক যারা মানুষকে কটাক্ষ করে কথা বলে এবং ঐসব লোক যারা মানুষের অনুপস্থিতিতে তার নিন্দা করে।” (সূরা হুমাযাহঃ ১)
ইসলাম কিভাবে সংশোধন করার কথা বলেছে এ বিষয়ে আমরা স্পষ্ট ধারণা পেতে পারি পবিত্র কুরআন থেকে। আল্লাহ তায়ালা হজরত মুসা (আ) এবং হারুন (আ) কে যখন ফেরাউনের কাছে পাঠানোর পূর্বে তাদেরকে নির্দেশ দিয়ে বলেছিলেন, “অতঃপর তোমরা তাকে নম্র কথা বল, হয়তো সে উপদেশ গ্রহণ করবে অথবা ভীত হবে।” (সূরা ত্বহা: ৪৪)
যে ফেরাউন আল্লাহর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিলো। নিজেকে খোদা বলে দাবি করেছিল, তার সাথে নম্র ভাষায় কথা বলার জন্য আল্লাহ তায়ালা দু’জন মহাসম্মানিত নবীকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। এর মাধ্যমে এটা স্পষ্টভাবে বুঝা যায় যে, ব্যক্তি যতই খারাপ হোক না কেন, তাকে ভুল থেকে ফিরিয়ে আনার জন্য তাকে নম্র ভাষায় বুঝাতে হবে। আমাদের সমাজের সকল শ্রেণীর মানুষের মন-মানসিকতা সমান নয়। প্রত্যেকের অবস্থা বিবেচনা করে তার ভুল সংশোধনের জন্য চেষ্টা করতে হবে।
কিছু মানুষকে ভুলের ব্যাপারে সতর্ক করা হলে তারা তা বুঝতে পেরে অকপটে স্বীকার করে তাদের ভুল সংশোধন করে নেয়। এ ধরনের লোকদের কোনো ভুল হয়ে গেলে তাদেরকে একাকী গোপনে নম্র ভাষায় সে ভুলের ব্যাপারে সতর্ক করা উচিত। তা না করে সকলের সামনে তিরস্কার করে তাদেরকে লজ্জা দেওয়া অথবা অন্যের কাছে তাদের দোষ প্রকাশ করা খুব অন্যায়। এটা তাদের ইজ্জতের উপর আঘাত হানার সমতুল্য গোনাহ। আর কোনো মুসলমানের ইজ্জতে আঘাত হানা ইসলামের দৃষ্টিতে মারাত্মক গোনাহের কাজ।
