বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কানেক্টেড থাকুন:
Logo
লগইন করুন নিবন্ধন করুন

সাইরেন বিড়ম্বনা

Author

এস এ এইচ ওয়ালিউল্লাহ , ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ (কুষ্টিয়া-৭০০৩)

প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০১৯ পাঠ: ৪৭ বার

এস এ এইচ ওয়ালিউল্লাহ

আমরা শব্দ যন্ত্রণায় জর্জরিত।  পুরো দেশে শব্দদূষণের মাত্রা ভয়াবহভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।  শহরগুলোর অবস্থা আরো করুণ।  রাস্তার পাশের বাড়িঘর, অফিস-আদালতে বসবাস করা রীতিমতো দুঃসহ হয়ে পড়েছে।  যানবাহনের হর্ন, নানা অনুষ্ঠানের পটকাবাজি, লটারির টিকিট, বৈদ্যুতিক বাল্ব, কসমেটিকসহ এ ধরনের বিভিন্ন দ্রব্য বিক্রির গাড়ির সঙ্গে ব্যবহূত মাইকের শব্দে মানুষ দিশাহারা।

সামপ্রতিক সময়ে এসব দূষণের সঙ্গে নতুন মাত্রায় যোগ হয়েছে দামি গাড়ি চড়ে সাইরেন বা হুটার বাজানো তথাকথিত নব্য ভিআইপিদের তত্পরতা।  স্বঘোষিত এই নব্য ভিআইপিরা রাষ্ট্রীয় কোনো পদ-পদবীতে না থাকলেও প্রভাবশালীদের আত্মীয় অথবা ক্ষমতাসীন দলে নিজের ছোটোখাটো দলীয় পদের পরিচয় ভাঙিয়ে রাস্তায় উচ্চৈশব্দে সাইরেনযুক্ত গাড়ি হাঁকিয়ে শব্দ সন্ত্রাসবাদ কায়েম করে চলেছে।  এরা গাড়ি ছাড়াও মোটরসাইকেলেও এখন সাইরেন লাগিয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে।

আগে সাইরেন ব্যবহার করা হতো অ্যাম্বুলেন্স,ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি, পুলিশের পিকআপসহ অতি প্রয়োজনীয় ও জরুরি কাজে নিয়োজিত বিশেষ কিছু সরকারি গাড়িতে।  সেই সময়টাতে সাইরেনের শব্দ শুনলে মনে হতো কোথাও আগুন লাগার কারণে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি জান-মাল রক্ষায় দ্রুত ছুটে যাচ্ছে, অথবা কোনো দুর্ঘটনাস্থলে পুলিশ যাচ্ছে কিংবা অ্যাম্বুলেন্স মুমূর্ষু রোগী বহন করছে।  যার ফলে যে যেই অবস্থায় থাকুক না কেন, রাস্তা থেকে অন্য পরিবহন সরিয়ে ঐ সকল পরিবহনকে  দ্রুত চলাচলের সুযোগ করে দিত।  অথচ এই বিশেষ হর্ন এখন সরকারি আমলাদের কালো রঙা দানব গোছের প্রতিটি গাড়িসহ অসংখ্য সাধারণ গাড়িতে দেখা যাচ্ছে।  দেশে সাইরেনযুক্ত গাড়ির সংখ্যা এতটাই বৃদ্ধি পেয়েছে যে, সারাদেশ যেন ‘সাইরেন বাদ্যযন্ত্রের’ ওপেন এয়ার কনসার্টে পরিণত হয়েছে।

এ কারণে গুরুত্বপূর্ণ গাড়ির হর্নের সঙ্গে ব্যক্তিগত গাড়ির হর্ন মিলে যাচ্ছে। বড়ো বড়ো শহরে জ্যামে আটকে থাকা অ্যাম্বুলেন্স ক্রমাগত সাইরেন দিয়ে যাচ্ছে।  আবার পাশের প্যাসেঞ্জারবাহী রেঞ্জারও একই হর্ন বাজাচ্ছে।  পুলিশের পিকআপও ঐ একই হর্ন দিচ্ছে।  কি আজব তামাশা! সবার হর্ন একই রকম।  ফলে সাইড দেওয়া বা না দেওয়া নিয়ে চরম বিভ্রান্তিতে পড়তে হচ্ছে ট্রাফিক পুলিশ এবং গণপরিবহনের চালকদের।

কিন্তু সাইরেন তথা এই গুরুত্বপূর্ণ হর্ন কি যে কোনো গাড়িতে বাজানো যায়? কিংবা এই হর্ন ব্যবহার করার অনুমতি আছে কোন গাড়িগুলোর?

আবার আমাদের দেশের জরুরি যানবাহন তথা পুলিশ-র‌্যাবের পিকআপ, অ্যাম্বুলেন্স ইত্যাদি যানবাহনের জন্য ৮-১০ ধরনের শব্দযুক্ত সাইরেন নির্ধারিত থাকলেও সবাই প্রায় একই রকম সাইরেন বাজিয়ে চলাচল করছে।

এভাবে আর কতকাল? এভাবে হেঁয়ালিপনা চলতে থাকলে এবং গুরুত্বপূর্ণ যানবাহনের হর্ন যেখানে-সেখানে বাজতে থাকলে ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বোধটুকু আর আশা করা যাবে না।  ফলস্বরূপ ফায়ার সার্ভিস, পুলিশের পিকআপ এবং অ্যাম্বুলেন্সসহ গুরুত্বপূর্ণ গাড়ির সেবাদান কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

সাইরেন হর্নের যথাযথ ব্যবহার সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের পাশাপাশি এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলকে যথেষ্ট সচেতন হতে হবে।  তাহলেই সাইরেনের গুরুত্ব বুঝে শব্দদূষণ কমানো, মূল্যবান সময় বাঁচানোসহ আমাদের দেশকে আরো গতিশীল করা সম্ভব হবে।

লেখক: শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া

লেখক: সভাপতি, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।
এই লেখাটি ২২ অক্টোবর ২০১৯ তারিখে দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় প্রকাশিত।
লিংক কপি হয়েছে!

ফোরাম ব্লাড ব্যাংক

রক্তদাতা খোঁজা হচ্ছে...

জরুরি প্রয়োজনে রক্তদাতা খুঁজুন

উপরের ফর্ম থেকে রক্তের গ্রুপ ও ঠিকানা নির্বাচন করে অনুসন্ধান করুন।