বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কানেক্টেড থাকুন:
Logo
লগইন করুন নিবন্ধন করুন

সূরা কাহাফ: ঢাল ও আলোকবর্তিকা

Author

আমিমুল এহসান নাজিফ , ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ

প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৬ পাঠ: ৩৬ বার

আল্লাহ তায়ালা মুসলিমদের জন্য বিভিন্নভাবে বিশেষ নেয়ামত ও ফজিলত দান করেছেন। কখনো বিশেষ কোনো দিনকে, কখনো কোনো সময়কে, কখনো কোনো আমলকে এবং কখনো কুরআনের কোনো সূরা বা আয়াতকে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছেন। বিশেষ সূরাসমূহের একটি হচ্ছে সূরা কাহ্ফ।

আল্লাহ তাআলা প্রদত্ত বিশেষ দিনসমূহের একটি জুমার দিন।

সেই জুমার দিনে মুসলিম উম্মাহর জন্য রয়েছে ফজিলতপূর্ণ অনেক আমল। এগুলোর মধ্যে একটি আমল অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তা হচ্ছে জুমার দিনে ‘সূরা কাহ্ফ’ তিলাওয়াত করা। সূরা কাহ্ফ পবিত্র কুরআনের ১৮ নম্বর সূরা। এর শুরু হয়েছে ১৫তম পারায় এবং এতে আয়াত রয়েছে ১১০টি।

জুমার দিনে ‘সূরা কাহ্ফ’ তিলাওয়াতের ফজিলত সম্পর্কে রাসূল (সাঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন সূরা কাহ্ফ পড়বে, তার (ঈমানের) নূর এ জুমা হতে আগামী জুমা পর্যন্ত চমকাতে থাকবে।’ (মিশকাত)।

সূরা কাহ্ফের আরও একটি বিশেষ ফজিলত ও তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা আমরা পবিত্র হাদিস থেকে জানতে পারি।

বারাআ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘এক ব্যক্তি সূরা কাহ্ফ তিলাওয়াত করছিলেন। তার ঘোড়াটি দু’টি রশি দিয়ে তার পাশে বাঁধা ছিল। তখন এক টুকরো মেঘ এসে তার উপর ছায়া দান করল। মেঘখণ্ড ক্রমেই নিচের দিকে নেমে আসতে লাগল। আর তার ঘোড়াটি ভয়ে লাফালাফি শুরু করে দিল। সকালবেলা যখন লোকটি নবী (সাঃ)-এর কাছে উক্ত ঘটনার কথা ব্যক্ত করেন, তখন তিনি বললেন, এ ছিল আস-সাকিনা (প্রশান্তি/ফেরেশতা), যা কুরআন তিলাওয়াতের কারণে নাজিল হয়েছিল।’ (বুখারি)।

শুধু তাই নয়, সূরা কাহ্ফের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে ফজিলত রয়েছে, সেটা হচ্ছে দাজ্জালের ফিতনা থেকে মুক্তির মাধ্যম। দাজ্জালের ফিতনা থেকে সুরক্ষার জন্য সূরা কাহ্ফের প্রথম দশ আয়াত মুখস্থ করার নির্দেশ হাদিসে এসেছে। অন্য একটি বর্ণনায় শেষ দশ আয়াতের কথাও রয়েছে। এ সম্পর্কে রাসূল (সাঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি সূরা আল কাহ্ফের প্রথম দশটি আয়াত মুখস্থ করবে তাকে দাজ্জালের অনিষ্ট হতে নিরাপদ রাখা হবে।’ (মুসলিম)।

দাজ্জালের ফিতনা কোনো সাধারণ বিষয় নয়। শেষ যুগে বহু মানুষ দাজ্জালের ফিতনায় বিভ্রান্ত ও পরীক্ষিত হবে।

দাজ্জালের ফিতনা কতটা ভয়ংকর হবে, তা কিছুটা আলোকপাত করা যাক।

দাজ্জালের ফিতনাসমূহের অন্যতম একটি ভয়ংকর ফিতনা হবে, তার সঙ্গে এমন কিছু থাকবে, যা বাহ্যিকভাবে জান্নাত ও জাহান্নামের মতো মনে হবে। কিন্তু বাহ্যিকভাবে যেটা জান্নাত দেখা যাবে, প্রকৃতপক্ষে সেটা হবে জাহান্নাম। যেটা দেখতে জাহান্নাম মনে হবে, সেটাই হবে জান্নাত।

এ সম্পর্কে পবিত্র হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, হুজাইফা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) দাজ্জাল সম্পর্কে বলেছেন, ‘দাজ্জালের আবির্ভাবকালে তার সাথে পানি এবং আগুন থাকবে। বাহ্যিক দৃষ্টিতে যা আগুন মনে হবে, প্রকৃতপক্ষে তা হবে ঠাণ্ডা পানি। আর যা পানি মনে হবে, সেটি হবে মূলত দাউ দাউ করা আগুন। তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি সেই সময়ের মুখোমুখি হবে, সে যেন দাজ্জালের আগুনের মধ্যে ঝাঁপিয়ে পড়ে। কারণ সেটি হবে সুমিষ্ট ও শীতল পানি।’ (মুত্তাফাকুন আলাইহি)।

আমাদের সর্বদা যাবতীয় ফিতনা থেকে বেঁচে থাকতে হবে এবং দাজ্জাল থেকে দূরে থাকতে হবে। তাছাড়া, দাজ্জালের আবির্ভাবের আগেও পৃথিবীতে নানা ধরনের ফিতনা ছড়িয়ে পড়বে। তাই নিজেদের সর্বদা হিফাজত করতে হবে। আর তার অন্যতম উপায় হচ্ছে সূরা কাহ্ফের তিলাওয়াত এবং প্রথম ও শেষ দশ আয়াত মুখস্থ করা। দাজ্জালের আবির্ভাবের সময় মুসলিমদের জন্য মক্কা-মদিনায় অবস্থান করা নিরাপদ হবে। কারণ, দাজ্জালের ফিতনার সময় মক্কা ও মদিনা বিশেষভাবে নিরাপদ থাকবে। দাজ্জাল এ দুই নগরীতে প্রবেশ করতে পারবে না।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘যে ব্যক্তি দাজ্জাল বের হওয়ার কথা শুনবে, সে যেন তার কাছে না যায়। আল্লাহর শপথ! এমন একজন লোক দাজ্জালের নিকটে যাবে, যে নিজেকে ঈমানদার মনে করবে। অতঃপর সে দাজ্জালের সাথে প্রেরিত সন্দেহময় জিনিসগুলো ও তার কাজ-কর্ম দেখে বিভ্রান্তিতে পড়ে ঈমান হারা হয়ে তার অনুসারী হয়ে যাবে।’ (আবু দাউদ)।

দাজ্জালের ফিতনাসমূহের আরেকটি হচ্ছে, তার কপালে আরবি অক্ষরে কাফের লেখা থাকবে। কিন্তু অমুসলিম ও মুনাফেকরা তা পড়তে পারবে না, যদিও তারা শিক্ষিত হবে। আর ঈমানদারগণ তা পড়তে পারবেন, তারা নিরক্ষর হলেও।

তাই, এই ফিতনা থেকে বাঁচার জন্য আমাদের ঈমানের যত্ন নেওয়া উচিত। সূরা কাহ্ফের তিলাওয়াত নিয়মিত করলে আমাদের ঈমান সেই ফিতনা মোকাবিলা করতেও প্রস্তুত থাকবে, ইনশাআল্লাহ।

দাজ্জালের আরও একটি ভয়ংকর ফিতনা হবে, দাজ্জাল মৃতকে জীবিত এবং জীবিতকে মৃত্যু দেয়ার মতো ক্ষমতা পাবে আল্লাহর পক্ষ থেকে। তার এই ক্ষমতায় অসংখ্য মুসলিম দ্বিধায় পড়ে ঈমানহারা হয়ে যাবে। দাজ্জাল তার কর্মকাণ্ডে শয়তানের সহযোগিতা নেবে। শয়তান কেবল মিথ্যা, গোমরাহী এবং কুফরি কাজেই সাহায্য করে থাকে। এ সম্পর্কে হাদিসের কিতাবে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘দাজ্জাল মানুষের কাছে গিয়ে বলবে, আমি যদি তোমার মৃত পিতা-মাতাকে জীবিত করে দেখাই, তাহলে কি তুমি আমাকে প্রভু হিসেবে মানবে? সে বলবে, অবশ্যই মানব। এ সুযোগে শয়তান তার পিতা-মাতার আকৃতি ধরে সন্তানকে বলবে, হে সন্তান! তুমি তার অনুসরণ কর। সে তোমার প্রতিপালক।’ (ইবন মাজাহ)।

এমন কঠিন অবস্থায় কীভাবে মুসলিমদের ঈমান রক্ষা করা সম্ভব? যখন একজন সাধারণ মুসলিম চোখের সামনে জান্নাত-জাহান্নাম দেখতে পাবে। তখন স্বাভাবিকভাবেই জান্নাতের দিকে অগ্রসর হবে। সে বুঝতেও পারবে না, সেটা যে ধোঁকা, সেটাই জাহান্নাম।

যখন তার মৃত পিতা-মাতা জীবিত হয়ে দাজ্জালকে প্রতিপালক মানতে বলবে, তখন স্বাভাবিকভাবেই সে বিশ্বাস করে নেবে। কারণ, তখন অধিকাংশ মুসলিমের ঈমান হবে দুর্বল। সেই কঠিন মুহূর্তেও কীভাবে একজন মুসলিম নিজের ঈমানের হিফাজত করবেন, সে পথ স্বয়ং রাসূল (সাঃ) দেখিয়ে দিয়েছেন। তিনি সূরা কাহ্ফ তিলাওয়াতের ফজিলত বর্ণনা করেছেন। দাজ্জালের ফিতনা থেকে সুরক্ষার জন্য প্রথম দশ আয়াত মুখস্থ করার নির্দেশ দিয়েছেন। অন্য বর্ণনায় শেষ দশ আয়াতের কথাও এসেছে। এত ছোট আমল, কিন্তু সেই ভয়ংকর মুহূর্তে ঈমানের ঢাল হিসেবে ব্যবহৃত হবে।

তাছাড়া, এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত এই সূরা তিলাওয়াতকারীর জন্য নূর হয়ে থাকবে।

আমাদের প্রত্যেকের উচিত নিজের ঈমানের যত্ন নেওয়া এবং সূরা কাহ্ফের প্রথম ও শেষ দশ আয়াত মুখস্থ করা সহ প্রতি জুমায় তিলাওয়াত করা।

 

লেখক: আমিমুল এহসান নাজিফ

শিক্ষার্থী: আল-কুরআন এণ্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ,

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।

উপ-দপ্তর সম্পাদক, বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।

লেখক: উপ-দপ্তর সম্পাদক, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।
এই লেখাটি ২৮ আগস্ট ২০২৬ তারিখে দৈনিক সময়ের আলো পত্রিকায় প্রকাশিত।
লিংক কপি হয়েছে!

ফোরাম ব্লাড ব্যাংক

রক্তদাতা খোঁজা হচ্ছে...

জরুরি প্রয়োজনে রক্তদাতা খুঁজুন

উপরের ফর্ম থেকে রক্তের গ্রুপ ও ঠিকানা নির্বাচন করে অনুসন্ধান করুন।