নকল কীটনাশকে প্রতারিত কৃষক
- নকল কীটনাশকে প্রতারিত কৃষক
বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ। এ দেশের মানুষের খাদ্য চাহিদার বড় একটি অংশ পূরণ হয় কৃষকদের উৎপাদিত ফসল থেকে। কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হলো দিনরাত পরিশ্রম করে ফসল ফলানো কৃষকরাই আজ বাজারের নকল ও ভেজাল কীটনাশকের দ্বারা মারাত্মকভাবে প্রতারিত হচ্ছেন। বাজারগুলোতে অননুমোদিত ও নিম্নমানের ওষুধ ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়ায় মাঠপর্যায়ের সাধারণ কৃষকেরা সঠিক কীটনাশক চিনতে পারছেন না। ভালো ফলনের আশায় তারা জমিতে যে বালাইনাশক প্রয়োগ করছেন তা মানহীন হওয়ায় সুফল মিলছে না। বরং উল্টো পোকা মাকড় দমনের পরিবর্তে ফসলের ক্ষতি আরোও বাড়ছে। এর ফলে প্রান্তিক কৃষকদের একদিকে অতিরিক্ত অর্থ অপচয় হচ্ছে অন্যদিকে সময়মতো রোগ প্রতিরোধ করতে না পারায় বিঘার পর বিঘা জমির ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এভাবে অনেক দরিদ্র চাষি শেষ সম্বলটুকুও হারাচ্ছেন। আবার এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ফসলের ন্যায্য মূল্য না পাওয়া, সময়মতো সার না পাওয়া ও নকল বীজের সমস্যা, যা দিন দিন কৃষিখাতকে দুর্বিসহ করে তুলছে। তাই সময় থাকতে সরকারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত বাজার তদারকির মাধ্যমে ভেজাল কীটনাশক তৈরির প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে যত দূরত্ব সম্ভব কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত । পাশাপাশি দরিদ্র কৃষককে সমৃদ্ধ করতে বিনা সুদে ক্ষুদ্র ঋণের সুযোগ তৈরি করা এবং মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের যথাযথ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রাকৃতিক উপায়ে রোগবালাই দমনের কলাকৌশল শেখাতে হবে। এতে করে কৃষকরা আর প্রতারিত হবেন না এবং ভেজালমুক্ত খাদ্য পাওয়া যাবে। তাই এ বিষয়ে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে আশা করি।
মোঃ মাজহারুল ইসলাম
শিক্ষার্থী : সরকারি আজিজুল হক কলেজ
মোবাইল:01787937572
