ভয় ছাড়িয়ে প্রেমের সান্নিধ্যে
আমাদের সিজদা আতঙ্কের নাকি ভালোবাসার? আমরা ঠিক কোন কারণে সৃষ্টিকর্তার আনুগত্য করি? খোদাকে নিয়ে আমাদের উদ্দেশ্য আর অনুভূতিও ধর্ম পালনে প্রভাব ফেলে।
ছোটবেলা থেকেই সমাজের মানুষ আর বিভিন্ন ওয়াজ-মাহফিলের বয়ানে আমাদের বোঝানো হয়, আল্লাহকে ভয় করতে হবে, নাহলে জাহান্নামের আগুনে পুড়তে হবে। আযাবের কথা বেশি গুরুত্ব সহকারে বলা হয়ে থাকে, যার কারণে মানুষের মনে ভয়-ভীতি ও বাঁচার আকুতি বেশি কাজ করে। এতে কারো কারো মনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে, “তবে আল্লাহ কি নিষ্ঠুর?”
কিন্তু আমরা কি কখনো ভেবে দেখেছি, আমাদের সৃষ্টিকর্তা যিনি আমাদের এত মর্যাদা দিয়ে সৃষ্টি করেছেন আর আমাদের ভেতর রূহ দিয়েছেন, তাঁকে কি নিষ্ঠুর ভেবে আতঙ্কের চোখে দেখার কোনো কারণ আছে? ইসলামে আল্লাহকে ভয় পাওয়ার অর্থ হলো তাঁর (আল্লাহর) নাফরমানি বা অসন্তুষ্টিকে ভয় করা। ভয় মানুষকে সীমালঙ্ঘন থেকে বাঁচায় আর ভালোবাসা আল্লাহর সান্নিধ্যে টানে। যখন একজন আল্লাহকে ভালোবাসে, তখন আল্লাহর সন্তুষ্টিই মুখ্য হয়ে ওঠে। মরমী দর্শনে বলা হয়, ইবাদতের মূল জ্বালানি হচ্ছে প্রেম বা ভালোবাসা। ভালোবাসার কারণেই আল্লাহর সৃষ্টি এই বিশ্বজগৎ, মনুষ্যজাতি, প্রকৃতি। আল্লাহর আরেকটি সুন্দর নাম আছে—‘আল-ওয়াদুদ’, অর্থাৎ যিনি ভালোবাসেন বা প্রেমময়। আল-কুরআনের বিভিন্ন আয়াত পড়লে বোঝা যায়, আল্লাহ তায়ালা কতটা প্রেমময়। তিনি বলেন, “(হে রাসুল!) আপনি বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো, তবে আমার অনুসরণ করো; তাহলে আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আর আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।” — (সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ৩১)। আল-কুরআনে তিনি আরও বলেন, “আর তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো এবং তাঁর দিকেই ফিরে আসো। নিশ্চয়ই আমার প্রতিপালক পরম দয়ালু ও প্রেমময়।” — (সূরা হুদ, আয়াত: ৯০)।
ইবাদত কেবল শাস্তির ভয়ে বাঁচার আকুতি না হয়ে খোদার সাথে পরম একাত্মতায় মিলিত হবার আকাঙ্ক্ষা হওয়া উচিত। কারণ এই জগতে সবচেয়ে খাঁটি অনুভূতি হচ্ছে প্রেম বা ভালোবাসা—হোক সেটা মানুষে-মানুষে কিংবা খোদার সাথে মানুষের।
জান্নাতুন নার্গিস চৈতী
শিক্ষার্থী, ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
