মুঘল স্থাপত্য রক্ষায় এখনই উদ্যোগ জরুরি
একটি জাতির ইতিহাস শুধু বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ নয়; ছড়িয়ে থাকে তার স্থাপত্য, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতিটি নিদর্শনে। পুরান ঢাকার বুড়িগঙ্গার তীরে দাঁড়িয়ে থাকা ঐতিহাসিক ছোট কাটরা ও বড় কাটরা মুঘল আমলের স্থাপত্যশৈলী ও আভিজাত্যের স্মারক। একসময় সরাইখানা হিসেবে ব্যবহৃত এসব স্থাপনা আজ অযত্ন, অবহেলা ও দখলের চাপে হারাতে বসেছে তাদের ঐতিহাসিক গুরুত্ব।
স্থাপনা দুটির আশপাশে দোকানপাটের বিস্তার এবং যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাব ঐতিহ্য সংরক্ষণের প্রশ্নকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। এসব স্থাপনা কেবল ইট-পাথরের নির্মাণ নয়; এগুলো আমাদের অতীত, সাংস্কৃতিক পরিচয় ও ঐতিহাসিক উত্তরাধিকারের অংশ। এগুলোর অবক্ষয় মানে ইতিহাসের দৃশ্যমান সাক্ষ্য হারিয়ে ফেলা।
এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত ছোট কাটরা ও বড় কাটরার সংরক্ষণ, প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা। পাশাপাশি অবৈধ দখল ও অপরিকল্পিত বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি সংরক্ষণ কার্যক্রমেও জনগণের সম্পৃক্ততা জরুরি।
ঐতিহ্য হারিয়ে গেলে তা ফিরিয়ে আনা কঠিন। তাই ইতিহাসকে কেবল অতীতের স্মৃতি হিসেবে নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করে এখনই মুঘল স্থাপত্য রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
