শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
কানেক্টেড থাকুন:
Logo
লগইন করুন নিবন্ধন করুন

নানাজানের কবর

Author

নকীবুল হক , নোয়াখালী বিজ্ঞান অ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশ: ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ পাঠ: ৭০ বার

নানাজানের কবরের উপর ঢিপঢিপ করে কুয়াশা পড়ছে। পড়ছে আমগাছ, কাঁঠালগাছ, সুপাড়িগাছ থেকে। পড়ছে নানাজানের প্রিয় পাতাবাহার এবং কলাবতী গাছের উপর। বাড়ির চারপাশ জুড়ে বিভিন্ন জায়গায় অতি যত্নসহকারে তিনি লাগাতেন পাতাবাহার এবং কলাবতী। আরও কিছু গাছ তিনি যত্নসহকারে লাগাতেন—বেলি, স্পাইডার লিলি, এবং পাথরকুচি। বেলি আমরা ছোটবেলায় দেখতাম লাগাতেন, তারপর কীভাবে যেন বেলি একসময় ফুরিয়ে গেল। স্পাইডার লিলি এবং পাথরকুচি তিনি প্যারালাইজড হওয়ার আগেও লাগিয়েছেন দেখেছি। ছোটবেলায় পাতাবাহারের কাঁচা পাতা ভেঙে জিহ্বায় লাগাতাম, তিতা একটা স্বদা অনুভূত হতো। কেন লাগাতাম সেই যুক্তি কিংবা কৌতূহল আজ আর মনে নাই। স্পাইডার লিলি ফুটলে আসরের পর কিংবা মাগরিবের আগে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখতাম। নানাজান আমাদেরকে স্পাইডার লিলি ছিঁড়তে নিষেধ করতেন। নিষেধ মান্য করে ছিঁড়িনি যে তা না, ছিঁড়েছি মাঝেমধ্যে, তবে খুব কম। কিন্তু ভুল করেও মাগরিবের আযানের সময়, মাগরিবের পরে কিংবা অন্যান্য সময় খুব নিরবে একা কখনো স্পাইডার লিলির কাছে যেতাম না। কারণ আমরা জানতাম এইসব সুন্দর, ঘ্রাণজ ফুলে জিন থাকে। একা একা কাছে যাওয়া নিরাপদ নয়।

 

এইসব কুয়াশামাখা শীতের দিনে ঘুম থেকে উঠে আমরা বড়ই কুড়াতাম। প্রায়ই আমাদের ঘুম ভাঙতো নানজানের কুরআন তেলাওয়াত শুনতে শুনতে। এবং যতদিন কুরআন তেলাওয়াত শুনে ঘুম ভাঙত ততদিন আমরা বিড়ালের মতো নিঃশব্দ পায়ে খানকার দরজা পেরোতাম। তিনি একেবারে দরজার মুখটায় বসে ঘিয়ে কালার চাদর গায়ে দিয়ে প্রতিদিন তেলাওয়াত করতেন এক পারা কুরআন। নানাজান তেলাওয়াত শুরু করেছেন মানে ফজরের ওয়াক্ত ইতোমধ্যে শেষ হয়ে গিয়েছে। মানে আজকেও আমরা ওয়াক্ত মতো ফজরের নামাজ পড়তে পারিনি। তাই অতি সন্তর্পণে খানকার দরজা পেরোতাম। এবং প্রায় সময়ই গিয়ে দেখতাম আমাদের আগে অন্য কেউ বড়ই কুড়িয়ে নিয়ে গেছে। তবে কখনোই সব নিয়ে যেত না। সবসময় কিছু বড়ই পড়েই থাকত। আমরা সেগুলো নিয়েই নানুর কাছে ফিরে আসতাম। নানু আমাদের শাসন করতেন, এত পরে ঘুম থেকে উঠলে মানুষ আমাদের জন্য বড়ই রেখে দিবে?

 

আজ আমি ওয়াক্ত মতো ফজরের নামাজ পড়েছি। নানজানের সেই ঘিয়ে কালার চাদর গায়ে দিয়ে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে রইলাম কবরের পাশে। খানকার দরজাটা আজ ভেজানো। সেই বড়ই গাছটাও নেই। নানাজানও নেই। শুধু নানাজানের কবরের উপর কুয়াশা পড়ছে ঢিপঢিপ করে…।

লেখক: সভাপতি, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।
এই লেখাটি ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় প্রকাশিত।
লিংক কপি হয়েছে!

ফোরাম ব্লাড ব্যাংক

রক্তদাতা খোঁজা হচ্ছে...

জরুরি প্রয়োজনে রক্তদাতা খুঁজুন

উপরের ফর্ম থেকে রক্তের গ্রুপ ও ঠিকানা নির্বাচন করে অনুসন্ধান করুন।