শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
কানেক্টেড থাকুন:
Logo
লগইন করুন নিবন্ধন করুন

বিষাদগ্রস্ত নগরীর বসন্ত-কথা

Author

মোঃ তায়ীম খান , Gopalgonj Science and Technology University, Gopalgonj

প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬ পাঠ: ৫০ বার

বিষাদগ্রস্ত নগরীর বসন্ত-কথা

এ শহরটা মূলত এক দীর্ঘশ্বাস লুকানোর আস্তানা। যেখানে ধোঁয়াটে আকাশ আর ইটের দেয়ালগুলো একে অপরের গায়ে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে আজন্ম ক্লান্তিতে। প্রতিদিন এখানে হাজারো স্বপ্ন যানজটের ধোঁয়ায় শ্বাসরোধ হয়ে মারা যায়, আর নিয়ন আলোয় ঢাকা পড়ে যায় মানুষের একাকীত্ব। ঠিক এমন এক স্থবির সময়ে, কোনো এক অলৌকিক ইশারায় ধূসর ক্যানভাসে রঙের ছিটে লাগে। নাগরিক কোলাহল ছাপিয়ে এক নীরব ঘোষণা ছড়িয়ে পড়ে বিষাদগ্রস্ত নগরীতে বসন্ত এসে গেছে।

এখানে বসন্ত মানে দিগন্তজোড়া শিমুলের আগুন নয়, বরং জ্যামে আটকে থাকা রিকশার চাকার পাশে কোনো এক নামহীন বুনোফুলের হঠাৎ জেগে ওঠা। যে শহরটা কাল অব্দি একগুঁয়ে শীতের কুয়াশায় নিজেকে গুটিয়ে রেখেছিল, আজ তার অলিতে-গলিতে এক অবাধ্য চঞ্চলতা।

 

“কংক্রিটের হাহাকার চিরে আজ কার গান বাজে?

শুকনো পাতার মড়মড় শব্দে কার নূপুরধ্বনি সাজে?

এ শহর বিষণ্ন ছিল, ছিল ধূসর কুয়াশায় ঢাকা

এখন তার জীর্ণ দেয়ালে বসন্তের আলপনা আঁকা।”

 

রাস্তার মোড়ে যেখানে প্রতিদিন ধুলো ওড়ে, সেখানে আজ দখিনা বাতাস এক অদ্ভুত স্মৃতিকাতরতা নিয়ে এসেছে। যারা ব্যস্ততার অজুহাতে আয়নার সামনে দাঁড়ানোর সময় পায় না, তারাও আজ জানালার গ্রিল ধরে থমকে দাঁড়ায়। রোদেলা দুপুরে পিচঢালা রাস্তার তপ্ত ঘ্রাণ ছাপিয়ে মনে হয়, কোথাও একটা গোপন মাধবী ফুটেছে। শহরের যান্ত্রিক কোকিলগুলো হয়তো নেই, কিন্তু মানুষের হৃদস্পন্দনের ভেতরেই যেন আজ এক অস্ফুট কুহুতান প্রতিধ্বনিত হচ্ছে।

এই বসন্তের ছোঁয়ায় নগরের কঠোরতা কিছুটা নরম হয়ে আসে। ফুটপাতের সেই জীর্ণ বৃদ্ধটি, যার জীবন কেবল বেঁচে থাকার লড়াই, সেও আজ বিকেলের নরম রোদে পিঠ ঠেকিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে এক রহস্যময় হাসি হাসে। পার্কের বেঞ্চে বসে থাকা উদাসীন তরুণটি হয়তো তার ডায়েরির পাতায় নতুন কোনো কবিতার প্রথম লাইন লিখে ফেলে। বসন্ত কি তবে কেবল ঋতু পরিবর্তন? নাকি এই যান্ত্রিক নরকে এক চিলতে মুক্তির ইশতেহার?

 

“বাতাসে মেশে যদি পোড়া চাকার বিষাক্ত ঘ্রাণ,

বসন্ত তবুও বয়ে আনে নবজীবনের গান।

ইটের পাঁজরে লুকিয়ে থাকা ছোট এক চিলতে ঘাস জানিয়ে দিচ্ছে মিছে নয় এ কবির বিশ্বাস।”

 

নগরীর মানুষের মনে জমে থাকা হিমশীতল অভিমানগুলো আজ গলে ঝরছে। যে ভালোবাসাগুলো অবহেলার ধুলোয় ঢাকা পড়েছিল, তারা আজ রোদে ডানা মেলছে। বিষাদ এ শহরের মজ্জায় মিশে থাকলেও, বসন্ত আজ সেই বিষাদকে বড় বেশি নগণ্য করে তুলেছে। চায়ের কাপে ওঠা ধোঁয়া কিংবা বারান্দার কোণে রাখা টবে এক নতুন পাতায় যে প্রাণের স্পন্দন, তা এই শহরের সব যান্ত্রিকতাকে হার মানায়।

 

বসন্ত এসে মনে করিয়ে দিচ্ছে, পাথরের বুকেও ফুল ফোটানো সম্ভব-যদি মনের কোণে এক ফোঁটা বসন্ত পুষে রাখা যায়। এ বিষাদগ্রস্ত নগরী আজ তাই বিষণ্নতাকে বিসর্জন দিয়ে ক্ষণিকের জন্য হলেও উৎসবে মাততে চায়। কারণ বসন্ত কারো অনুমতি নিয়ে আসে না, সে আসে অধিকার নিয়ে; ঠিক যেমন ভালোবাসা আসে ভাঙাচোরা মনের দুয়ারে।

 

“রংচটা দেয়ালে আজ লেগেছে নতুন প্রাণের মায়া,

বিষাদ শহর চিরে নামল একমুঠো রোদের ছায়া।

বসন্ত তুমি এসেছ বলে থমকে আছে দীর্ঘশ্বাস,

মরুশহরের বুকে জাগছে আজ সবুজ এক বিশ্বাস।”

লেখক: প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক, গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।
লিংক কপি হয়েছে!

ফোরাম ব্লাড ব্যাংক

রক্তদাতা খোঁজা হচ্ছে...

জরুরি প্রয়োজনে রক্তদাতা খুঁজুন

উপরের ফর্ম থেকে রক্তের গ্রুপ ও ঠিকানা নির্বাচন করে অনুসন্ধান করুন।