নিঃশব্দ ভালোবাসার কাব্যিক কথকতা
“নিঃশব্দ ভালোবাসার কাব্যিক কথকতা”
তুমি সত্যিই জানো না, কোনো এক নিভৃত আঁধারে বসে কতটা গভীর আর নিঃশব্দে আমি তোমার প্রতিটি স্মৃতি বুকের গহীনে আঁকড়ে রাখি। জগৎ-সংসার যখন ক্লান্ত হয়ে ঘুমের কোলে ঢলে পড়ে, চারপাশে যখন কোনো সাড়াশব্দ থাকে না, দিনের সমস্ত কোলাহল আর ব্যস্ততা ধুয়ে-মুছে যায়, ঠিক তখনই আমার একলা আকাশটা জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে কেবল তোমারই সুর। রাতগুলো তখন আর নিছক সময় হয়ে থাকে না। তারা পরিণত হয় এক অনন্ত প্রতীক্ষায়, যেখানে অগণিত রাত আমি জেগে পার করে দিই কেবল চোখের সামনে তোমার স্নিগ্ধ মুখখানা ভাসিয়ে।
কতশত নিঝুম রাতে কল্পনার তুলি দিয়ে তোমাকে জীবনের ক্যানভাসে এঁকেছি, কত ব্যাকুল রূপে তোমাকে জড়িয়ে নিয়েছি আমার প্রতিদিনের চেনা-অচেনা প্রার্থনায়। তার কোনো হিসাব হয়তো কোনোদিন কোনো খাতায় লেখা থাকবে না, আর হয়তো তোমাকেও কখনো দেওয়া হবে না।
তুমি জানো না, এই নিভৃত, একতরফা অনুভূতির মাঝেও কী ভীষণ এক তোলপাড়, কী এক আকুলতা লুকিয়ে আছে। কিছু ভালোবাসা এমন হয়, যার কোনো চিৎকার নেই, নেই কোনো জাগতিক দাবি কিংবা প্রতিশ্রুতির বাঁধন; তা নিঃশব্দে বয়ে চলে পাহাড়ি ঝরনার মতো, নিজের গতিতেই মগ্ন থেকে সুদূরের পথ পার করে দেয়। আমার সমস্ত হাহাকার, ব্যাকুলতা আর ভালোবাসা হয়তো শেষ পর্যন্ত এই হৃদয়ের চার দেয়ালের মাঝেই বন্দি থেকে যাবে। তবুও অদৃশ্য টানে বাঁধা পড়ে প্রতিটা নিঃশ্বাসে, অনুভূতির প্রতিটি সূক্ষ্ম অনুভবে আমি শুধু তোমাকেই ভালোবেসে যাবো, একেবারে নিভৃতে, নিজের সবটুকু নীরবতা তোমার কাছে সঁপে দিয়ে।
