বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কানেক্টেড থাকুন:
Logo
লগইন করুন নিবন্ধন করুন

ডাকসুর অর্জন ও সীমাবদ্ধতার নেপথ্যে

Author

মুহাম্মাদ যায়েদ আব্দুল্লাহ , ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০২৬ পাঠ: ৪০ বার

বহু চড়াই-উৎরাই পার হয়ে ২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা আকাশসম আকাঙ্ক্ষা নিয়ে নির্বাচিত করেন তাদের পছন্দের প্রার্থীদের। সকলেই নিশ্চিত ছিলেন এবার হয়তো তাদের ভাগ্যের চাকা ঘুরবে; নিজেদের দাবি-দাওয়া ও মৌলিক অধিকারগুলো পূরণে সচেষ্ট ও কার্যকরী ভূমিকা পালন করবেন ছাত্রপ্রতিনিধিরা। কিন্তু প্রশংসামূলক বেশকিছু বড় প্রজেক্ট সফলতার মুখ দেখলেও দিনশেষে ডাকসুকে পূর্ণ সফল মানতে নারাজ অনেক শিক্ষার্থী। এর নেপথ্যে রয়েছে প্রশাসনের অসহযোগিতা ও দায়সারা ভাব, কিছু ছাত্রপ্রতিনিধির দায়িত্ব অবহেলা এবং বিরোধী ছাত্রসংগঠনগুলোর অপপ্রচার।
​কয়েকদিন পূর্বেই কলাভবনে মেয়েদের কমনরুমে বহুল কাঙ্ক্ষিত ক্যান্টিনের উদ্বোধন হলো। উদ্যোগটি ছিল নারী শিক্ষার্থীদের অনেকদিনের প্রত্যাশার ফল। কিন্তু ক্যান্টিনের খাবারের দামে দেখা দিল অদূরদর্শিতার ছাপ। সাধারণ ক্যান্টিনের ৫০ টাকার খাবারের দাম ১১০ টাকা। শিক্ষার্থীদের ওয়েলফেয়ারের বন্দোবস্ত রূপ নিল তাদের বোঝা হয়ে। এছাড়াও, শুধুমাত্র নারী শিক্ষার্থীদের জন্যই ক্যান্টিনের ব্যবস্থা করায় ছেলে শিক্ষার্থীরা বৈষম্যের শিকার হলো। অন্যদিকে, হলগুলোর ক্যান্টিনের খাবারের মান উন্নয়নে ডাকসু যথাসাধ্য চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তা সফলতার মুখ দেখেনি। আজ এক হলের খাবারে টিকটিকি তো অন্য দিন অন্য হলের খাবারে ব্লেডের উপস্থিতি। বারংবার ক্যান্টিন মালিক পরিবর্তনেও এ সমস্যার সমাধান আজও হয়ে ওঠেনি।
​বেশ কয়েকদিন পূর্বের ভারী বর্ষণের সময়ে কলাভবনের রাস্তায় ছিল হাঁটু সমান পানি। দেশের সর্বোচ্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন বেহাল দশা ক্যাম্পাসের মান ক্ষুণ্ণ করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ভোগান্তিতেও ফেলেছে। যথাযথ পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় নারী হলগুলোর চিত্র ছিল আরও জঘন্য। খাবার পানির অভাবে ডাকসুর সরবরাহকৃত বোতলজাত পানি পান করতে হয়েছে তাদের। তবে মানসিক দক্ষতা উন্নয়ন, উচ্চশিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি ও জব ফেয়ারসহ শিক্ষার্থীবান্ধব নানা ধরনের সেমিনার আয়োজন করেছে ডাকসু। এ সকল আয়োজন শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলে।
অন্যদিকে, ​শিক্ষার্থীদের প্রশংসায় ভেসেছেন পরিবহন সম্পাদক। বহুল কাঙ্ক্ষিত সান্ধ্যকালীন বাস ও ছুটির দিনেও বাস ব্যবস্থা চালু করে ব্যাপক প্রশংসা কুড়ান তিনি। কিন্তু এ দাবিগুলো বাস্তবায়নেও প্রশাসনের অসহযোগিতা ছিল চোখে পড়ার মতো। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হোক কিংবা যেকোনো অসদিচ্ছা, ছাত্রদের মৌলিক অধিকারগুলো নিশ্চিতকরণেের প্রতিটা পদক্ষেপে প্রশাসন এমন অসহযোগী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।
​এমন কিছু সংকটই ডাকসুর যুগোপযোগী অর্জনকে অনেকাংশে ম্লান করে দিয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সাধারণ শিক্ষার্থীরা কেবল একটি নির্বাচিত সংসদ চেয়েছিল তা নয়, চেয়েছিল সমস্যার কার্যকর সমাধান। কিন্তু প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির মধ্যে এই বিশাল ব্যবধান শিক্ষার্থীদের মাঝে গভীর হতাশাবোধ তৈরি করেছে।
​বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও উদাসীনতা ডাকসুর কাজের গতিকে বারবার রুদ্ধ করেছে। শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি আদায়ে ছাত্রপ্রতিনিধিদের সোচ্চার ভূমিকার পাশাপাশি প্রয়োজন ছিল প্রশাসনের প্রশাসনিক ও আর্থিক সহযোগিতা। দুঃখজনক হলেও সত্য, বাজেট বরাদ্দ থেকে শুরু করে অবকাঠামোগত সংস্কারের প্রতিটি ধাপে প্রশাসনের অহেতুক দীর্ঘসূত্রতা দেখা গেছে। ফলে যে পরিবর্তনগুলো দ্রুত সম্ভব ছিল, সেগুলোও আটকে আছে ফাইলবন্দি হয়ে।
​একই সাথে কিছু ছাত্রপ্রতিনিধির অভিজ্ঞতা ও দূরদর্শিতার অভাবও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ক্যাম্পাসের উল্লেখযোগ্য সংকটসমূহ যেমন: লাইব্রেরিতে আসন সংকট, বহিরাগত আগমন ও প্রশাসনের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা পুরোপুরি দূর করতে না পারায় তাদের কার্যক্ষমতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে শিক্ষার্থীরা। অন্যদিকে, বিরোধী ছাত্রসংগঠনগুলোর গঠনমূলক সমালোচনার পরিবর্তে কেবল রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের উদ্দেশ্যে অপপ্রচার চালানো ডাকসুর কাজকে আরও কঠিন করেছে।
​এতসব সীমাবদ্ধতা, রাজনীতি ও প্রশাসনিক বাধা থাকা সত্ত্বেও ২৪-এর গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী এই ডাকসু অনেকাংশেই শিক্ষার্থীবান্ধব ছিল। নানা ত্রুটি-বিচ্যুতি সত্ত্বেও সান্ধ্যকালীন বাস চালুল মতো শিক্ষার্থী কল্যাণমূলক পদক্ষেপ কিংবা ক্যারিয়ারমুখী বিভিন্ন আয়োজন প্রমাণ করে যে, সদিচ্ছা থাকলে কিছু পরিবর্তন সম্ভব। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা কেবল আংশিক সাফল্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। একটি পূর্ণাঙ্গ, শিক্ষার্থীবান্ধব ও কার্যকর ক্যাম্পাস গড়ে তুলতে হলে ডাকসুর পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকেও তাদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
লেখক: সদস্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
এই লেখাটি ২৩ আগস্ট ২০২৬ তারিখে দৈনিক আজকালের খবর পত্রিকায় প্রকাশিত।
প্রকাশিত: দৈনিক আজকালের খবর
Paper Cutting
লিংক কপি হয়েছে!

ফোরাম ব্লাড ব্যাংক

রক্তদাতা খোঁজা হচ্ছে...

জরুরি প্রয়োজনে রক্তদাতা খুঁজুন

উপরের ফর্ম থেকে রক্তের গ্রুপ ও ঠিকানা নির্বাচন করে অনুসন্ধান করুন।