বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কানেক্টেড থাকুন:
Logo
লগইন করুন নিবন্ধন করুন

মানি চেঞ্জিং ব্যাবসা হালাল নাকি হারাম?

Author

হাবিব আল মিসবাহ , ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশ: ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫ পাঠ: ৩৯ বার

 

ইসলাম এমন একটি জীবনব্যবস্থা, যেখানে অর্থনৈতিক লেনদেন থেকে শুরু করে সামাজিক সম্পর্ক সব ক্ষেত্রেই ন্যায়, সততা ও স্বচ্ছতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে সুদ বা রিবা, যা মানুষের সম্পদকে অন্যায়ভাবে গ্রাস করে এবং সমাজে বৈষম্য সৃষ্টি করে। এটিকে ইসলামে স্পষ্ট ও কঠোরভাবে হারাম ঘোষণা করা হয়েছে। এ কারণেই মুসলমানরা আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক। তারা সবসময়ই জানতে চান, কোন ব্যাবসা শরিয়তসম্মত আর কোনটি নয়। এমন প্রশ্নগুলোর ভেতর “মানি চেঞ্জিং ব্যাবসা কি হালাল?” এটি অন্যতম।

 

এই প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায় রসুলুল্লাহ সা. এর একটি সুস্পষ্ট নির্দেশনায়। রসুলুল্লাহ সা. বলেছেন—

“সোনা বিনিময়ে সোনা, রুপা বিনিময়ে রুপা, গম বিনিময়ে গম, যব বিনিময়ে যব, খেজুর বিনিময়ে খেজুর এবং লবণ বিনিময়ে লবণ সমপরিমাণে, সমান সমানে, হাতে হাতে আদান-প্রদান করতে হবে। এগুলোর মধ্যে কেউ বেশি নিলে বা বেশি দিলে, সে সুদে লিপ্ত হলো। তবে যদি পণ্যের ধরন ভিন্ন হয়, তাহলে বেশি-কম বিনিময়ে কোনো ক্ষতি নেই। শর্ত হলো লেনদেনটি হাতে হাতে সম্পন্ন হতে হবে।”

— সহিহ মুসলিম, কিতাবুল মাসাকাত, হাদিস নং ১৫৮৭, বর্ণনাকারী উবাদাহ ইবনুস সামিত (রা.)।

এই হাদিস ইসলামিক অর্থনীতির একটি মূলনীতি স্থির করে দেয়, একই প্রকারের জিনিস একই পরিমাণে দিলে তবেই লেনদেন বৈধ, আর ভিন্ন প্রকার হলে বেশি-কম করা জায়েজ।

 

এখন প্রশ্ন আসে এর সাথে মানি চেঞ্জিং ব্যাবসার সম্পর্ক কী? মুদ্রা কেন ভিন্ন প্রকার পণ্য হিসেবে গণ্য?

ইসলামের প্রাথমিক যুগে মুদ্রা ছিল সোনা ও রুপা। সময়ের পরিবর্তনে কাগজের নোট, কয়েন ও ডিজিটাল মানি এসেছে। ইসলামি ফিকহে এগুলো এখনো সোনা-রূপার বিকল্প হিসেবে বিবেচিত। আর যেহেতু প্রতিটি দেশের মুদ্রা ভিন্ন প্রকার (টাকা, ডলার, রিয়াল, রুপি) তাই এগুলোর মধ্যে দামের পার্থক্য থাকা খুবই স্বাভাবিক। এ কারণে এক দেশের মুদ্রা অন্য দেশের মুদ্রার বিনিময়ে বেশি-কম দামে বিক্রি করা পুরোপুরি বৈধ। কিন্তু এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ শরয়ি শর্ত আছে। শর্তটি হলো লেনদেন অবশ্যই তৎক্ষণাৎ হতে হবে।

হাদিসে বলা হয়েছে, “হাতে হাতে” অর্থাৎ লেনদেনের সাথে সাথেই উভয় পক্ষকে তাদের পাওনা বুঝে নিতে হবে। দেরি করা যাবে না। কারণ দেরি হলে সুদের সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়।

যেমন, আজ ১০০ ডলারের মূল্য ১২,০০০ টাকা।

কিন্তু কেউ যদি বলে, “আমি এখন ১০০ ডলার নিয়ে গেলাম, ১২,০০০ টাকা বিকেলে দেব” এটা হাতে হাতে হলো না।এখানে অর্থ আটকে থেকে “বাকি ও সুদের মতো সম্পর্ক” তৈরি হতে পারে। সুতরাং, ডলার দিলে টাকা তৎক্ষণাৎ নিতে হবে। টাকা দিলে রিয়াল সেখানেই নিতে হবে। প্রতিশ্রুতি রেখে পরে লেনদেন করা যাবে না।

এটাই মানি চেঞ্জিং ব্যবসাকে হালাল রাখার মৌলিক শর্ত।

 

মানি চেঞ্জিং ব্যাবসা যেসব কারণে হালাল –

১) মুদ্রা ভিন্ন প্রকার হওয়ায় বেশি-কম করা জায়েজ।

যেমন : ১ ডলার, কখনো ১২০ টাকা, কখনো ১১০ টাকা। ইসলামিক দৃষ্টিতে এ পার্থক্য বৈধ। কেননা টাকা, ডলার বা রিয়াল, মানের দিক থেকে এক নয়।

২) লেনদেন হাতে হাতে হওয়ায় সুদের সম্ভাবনা নেই।

মানি এক্সচেঞ্জে সাধারণত উভয় পক্ষই তাৎক্ষণিকভাবে টাকা-পয়সা বুঝে পান।

৩) চাহিদা-জোগানের ওপর ভিত্তি করে মূল্য নির্ধারণ। বিশ্ববাজারে মুদ্রার মূল্য প্রতিদিন ওঠানামা করে। এটি সুদ নয়, স্বাভাবিক বাজারদর।

৪) এটি ইসলামি অর্থনীতিতে ও ইসলামি ফিকহে ‘সারফ’ নামে পরিচিত। যা ইসলামের বৈধ ব্যাবসাগুলোর একটি ধরন।

 

তবে কিছু শর্ত অবশ্যই মানতে হবে-

১) লেনদেন সাথে সাথে (Spot Transaction) হতে হবে।

২) চুক্তির পর কোনো পক্ষ বাকি রাখবে না।

৩) হারাম কাজে টাকা সরবরাহ বা সহায়তা করা যাবে না।

৪) প্রতারণা, লুকানো চার্জ, বাড়তি সুবিধা নেওয়া নিষিদ্ধ।

৫) কোনোভাবেই একই দেশের মুদ্রা বেশি – কম করা যাবে না, কারণ তা মানের দিক দিয়ে সমান। যদি এ শর্তগুলো ভঙ্গ করা হয়, সেক্ষেত্রে ব্যাবসা জায়েজ হবে না।

আজকের বৈশ্বিক অর্থনীতিতে মুদ্রা বিনিময় একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাবসা। সঠিক শরয়ি নির্দেশনা মেনে একজন মুসলিম এই খাতে সম্পৃক্ত হতে পারে।

 

হাবিব আল মিসবাহ

শিক্ষার্থী: আল-কুরআন এণ্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।

উপ-দপ্তর সম্পাদক, বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।

মোবাইল: ০১৬

১১-৫৬৩৮১৯

মেইল: hmh42242@gmail.com

লেখক: দপ্তর সম্পাদক, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।
এই লেখাটি ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে আমার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত।
লিংক কপি হয়েছে!

ফোরাম ব্লাড ব্যাংক

রক্তদাতা খোঁজা হচ্ছে...

জরুরি প্রয়োজনে রক্তদাতা খুঁজুন

উপরের ফর্ম থেকে রক্তের গ্রুপ ও ঠিকানা নির্বাচন করে অনুসন্ধান করুন।