শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
কানেক্টেড থাকুন:
Logo
লগইন করুন নিবন্ধন করুন

প্রতিবাদের প্রতীক আবরার ফাহাদ

Author

মুহাম্মাদ যায়েদ আব্দুল্লাহ , ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬ পাঠ: ৫০ বার

“আবরার ফাহাদ” নামটি ছোট্ট হলেও ভিনদেশি আগ্রাসন ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার ইতিহাসে তাঁর ত্যাগ কোনো মাপকাঠিতে পরিমাপযোগ্য নয়। স্বদেশের প্রতি প্রগাঢ় ভালোবাসায় নিজ কন্ঠস্বরকে প্রতিবাদী হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন। নিজের রক্ত দিয়ে প্রমাণ করে গেছেন, তৎকালীন ক্ষমতার মসনদে থাকা শাসকগোষ্ঠীর জন্মভূমি বাংলাদেশ হলেও তাদের চিন্তা, চেতনা ও মনন ছিল ভিনদেশি তোষামোদিতে আচ্ছন্ন। কয়েক লাইনের
একটি ফেসবুক পোস্ট, আর তার বিনিময়ে প্রাণ দেওয়া, এটাই ছিল শেখ হাসিনার দুঃশাসনের নগ্ন চিত্র। তবে তাঁর এই আত্মত্যাগ বিফলে যায়নি; চুপসে যাওয়া প্রতিবাদী কণ্ঠগুলোর জন্য তিনি হয়ে উঠেছিলেন অদম্য এক প্রতিরোধের আওয়াজ।

​২০১৯ সালের ৬ই অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলে আবরার ফাহাদের মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড ছিল বাংলাদেশের রাজনীতিতে স্বৈরাচারের পতন ও নতুন সূর্যোদয়ের পূর্বে গভীর কালো রাত। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও নির্মম আত্মত্যাগে সমগ্র দেশবাসী ক্ষোভে ফেটে পড়েছিল। শেখ হাসিনার বাহিনী দ্বারা সংঘটিত অসংখ্য অপকর্ম ধামাচাপা দেওয়ার অতীত রেকর্ড থাকলেও আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ড ছিল তার ব্যতিক্রম। তথ্য ও প্রমাণাদি এতটাই সুস্পষ্ট ছিল যে, ঘাতকদের দায় স্বীকার করা ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না। তৎকালীন ছাত্রলীগ সভাপতি নাহিয়ান খানের বক্তব্যে আওয়ামীলীগের অসহায়ত্বের ছাপ ফুটে উঠেছিলো স্পষ্টভাবে। তিনি বলেছিন, “কিছু অতি উৎসাহী নেতাকর্মীরা ক্ষমতা ও দাপট প্রকাশ করতে গিয়ে এ ধরনের কান্ড ঘটিয়েছে, এর সাথে ছাত্রলীগের মতাদর্শের কোনো সম্পর্ক নেই।” এছাড়া আর কোনোপথ ছিলোও না তাদের, কারন নির্যাতনকারী বেশিরভাগই ছিলো ছাত্রলীগের পদভুক্ত নেতা।

​তৎকালীন সময়ে ভারতের গোলামী ও শর্তহীন আনুগত্য ছিল শাসকদলের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার মূল হাতিয়ার। নির্বাচন এলে ভারতের সমর্থন লাভ, দলীয় নেতাদের দিল্লি দৌড়ঝাঁপ কিংবা ভারতীয় আতিথেয়তা ঘটা করে প্রচার করা ছিলো নিত্তনৈমিত্তিক বিষয়। এই ভারতপ্রীতি মফস্বল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের এমনভাবে প্রভাবিত করেছিল যে, ভারতের সমালোচনা করাকে দলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ হিসেবে গণ্য করা হতো। ভারতীয় নীতির বিরুদ্ধে কথা বলা মানেই স্বৈরাচারের রোষাণলে পড়া। সেখান থেকেই মুলত আবরার ফাহাদের হত্যাকান্ড ঘটে। দলের প্রতি ভালোবাসা ও ত্যাগী হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করতেই লীগের কর্মীরা এহেন কর্মকাণ্ড ঘটায়।
ভারতের প্রতি সরকারের এই অন্ধ আনুগত্য শেষ পর্যন্ত সাধারণ জনগণ থেকে তাদের পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করে দেয়।

​ইতিহাস সাক্ষী, যেকোনো জালিম শাসকের বিরুদ্ধে জনরোষের দাবানল প্রজ্বলিত করতে একজন আদর্শ প্রতিবাদীর আত্মত্যাগ দরকার হয়। যিনি নিজের জীবনকে সেই আগুনে জ্বালানি হিসেবে সঁপে দেন। আরব বসন্তের প্রতিক তিউনিসিয়ার মোহাম্মদ বুয়াজিজি কিংবা নারী শিক্ষার জন্য বুলেটের মুখোমুখি হওয়া পাকিস্তানের মালালা ইউসুফজাইয়ের মতো বাংলাদেশে সেই অনন্য চরিত্রটি ছিলেন আবরার ফাহাদ। ২০০৯ থেকে ২০১৯; সুদীর্ঘ দশ বছরে শেখ হাসিনার রোষানলে কত মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, তার ইয়ত্তা নেই। কিন্তু ইতিহাসের পট পরিবর্তনের জন্য এমন একজন প্রতীকের প্রয়োজন হয়, যিনি পুরো জাতিকে এক সূত্রে গাঁথতে পারেন। আবরার ফাহাদ ছিলেন সেই চেতনার প্রতীক।

​পরবর্তী প্রতিটি স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে রাজপথের ব্যানার, ফেস্টুন আর হাজারো কন্ঠের সম্মিলিত স্লোগানে তাঁর নাম উচ্চারিত হয়েছে অনুপ্রেরণা হিসেবে। আবরারের রক্তে রোপিত সেই প্রতিবাদের বীজই পরবর্তীকালে বৈষম্যবিরোধী গণঅভ্যুত্থানের মহাসমুদ্রে পরিণত হয় এবং স্বৈরাচারের পতন ত্বরান্বিত করে। তিনি মৃত্যুবরণ করেছিলেন সাধারণ একজন প্রতিবাদী হিসেবে। কিন্তু, দেশের প্রতি তাঁর প্রেম ও আধিপত্যবাদ বিরোধিতা তাকে গড়ে তুলে স্বাধীন বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে চিরন্তন প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে। আবরার ফাহাদের মতো প্রতিবাদী জন্ম নিক আরো হাজার বার। তবে, দ্বিতীয় কোনো “আবরার” যেনো আমরা না হারাই এটাই কাম্য।

লেখক: সদস্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
এই লেখাটি ১১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকায় প্রকাশিত।
লিংক কপি হয়েছে!

ফোরাম ব্লাড ব্যাংক

রক্তদাতা খোঁজা হচ্ছে...

জরুরি প্রয়োজনে রক্তদাতা খুঁজুন

উপরের ফর্ম থেকে রক্তের গ্রুপ ও ঠিকানা নির্বাচন করে অনুসন্ধান করুন।